কেরানীগঞ্জে অবস্থিত যাত্রাবাড়ি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে একদিন…

যাত্রাবাড়ি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস আগে ছিলো রায়েরবাগে। বছরখানেক আগে যখন পাসপোর্ট করেছিলাম, তখন রায়েরবাগ এর লোকেশন টাকেই অনেক বাজে লোকেশন বলেছিলাম, কিন্তু গতকাল নতুন লোকেশনে যাওয়ার পর গত বছরের সেই ভাবনার জন্য তওবা করাটা ম্যান্ডেটরি হয়ে গেছে! রায়েরবাগে তবু যেকোন জায়গা থেকে সহজে যাওয়া যেতো, ফ্লাইওভারের কারনে সেটা আরেকটু সহজ ছিলো। কিন্তু এখন যে জায়গায় গেলো এটাকে এক কথায় ঢাকার বাইরে বলা যায়। বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে যেতে হয়, ঢাকার ভিতর থেকে কোন সিএনজি যেতে চায় না, এমনকি যাত্রাবাড়ি থেকেও সরাসরি সিএনজি যেতে চাইলো না!

যাই হোক, গতকালকের কিছু অভিজ্ঞতা লিখে রাখার জন্যই মুলত বসলাম এই আর্টিকেল নিয়ে। হয়তো কারো কারো উপকারে আসতেও পারে।

কিভাবে গেলাম ?

স্টার্টিং পয়েন্ট হিসেবে ছিলো বাসাবো। বাসাবো বিশ্বরোড থেকে উবার চেক করলাম, ইন্টারসিটি দেখায়, অর্থাৎ ঢাকার বাইরে -_- কয়েকটা সিএনজি জিজ্ঞেস করলাম, এরা কেউ যাবে না। পরে রিক্সাই নিলাম একটা যাত্রাবাড়ি পর্যন্ত।

যাত্রাবাড়ি থেকে কয়েকটা সিএনজি কে জিজ্ঞেস করলাম, কেউ যাবে না ওইদিকে। পরে আরেকটা রিক্সা নিলাম পোস্তগোলা পর্যন্ত। পোস্তগোলায় গিয়ে কিছু লোকাল সিএনজি পেলাম। একটা সিএনজিতে ব্রীজ পার হলাম ১০ টাকা/প্রতিজন। ব্রীজের ওইপাশ থেকে আরেকটা লোকাল সিএনজিতে উঠলাম, সেটা পাসপোর্ট অফিসের সামনে নামিয়ে দিলো। ভাড়া ২০ টাকা/প্রতিজন।

ফেরার পথেও অনেকটা একইভাবেই ফিরলাম, অফিসের সামনে থেকে সিএনজি পেলাম পোস্তগোলা পর্যন্ত, ব্রীজ পার করে পোস্তগোলাতেই নামায়। ভাড়া ২৫ টাকা/প্রতিজন।

সতর্কতাঃ পোস্তগোলা থেকে শুরু করে মাওয়ার দিকে রাস্তায় কাজ হচ্ছে, যার কারনে প্রচুর পরিমান বালি রাস্তায়। সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া ভালো।

অবস্থান/লোকেশন/পারিপার্শিক অবস্থাঃ

পাসপোর্ট অফিসের অবস্থান অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে। যতদূর তাকাবেন শুধু কাশফুল দেখবেন। আশেপাশের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে একটিমাত্র হাইরাইজ বিল্ডিং আর সেটাই যাত্রাবাড়ি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস।

সকাল ৯ টার একটু পরে পৌঁছেছিলাম, ততক্ষনেই প্রচুর লম্বা সিরিয়াল হয়ে গেছে। গেট দিয়ে শুধুমাত্র যারা পাসপোর্ট করবেন, তাদেরকে ফিল্টার করে ঢুকানো হচ্ছিলো। যেহেতু আমি ফ্রেন্ডের সাথে গিয়েছিলাম, তাই ফিল্টার্ড হয়ে বাইরেই আটকে গেলাম। এমন আরো অনেকেই ফিল্টার্ড হয়ে বাইরে ওয়েট করছিলেন।

যদি এভাবে ফিল্টার করা হয়, তাহলে বাইরে ওয়েটিং রুমের মত একটা সেটাপ  করে রাখা প্রয়োজন। রোদের মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকাটা কষ্টকর।

সার্ভিসঃ

ভিতরে গেলে প্রথমেই ফর্ম জমা দেয়ার সিরিয়াল, এরপর অফলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে এন্ট্রি তারপর ছবি তোলার আর অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে সরাসরি ছবি তোলার সিরিয়ালে দাড়াতে হয়।

জমা দেয়ার সিরিয়াল ওয়েল মেইন্টেন্ড থাকার কারনে দ্রুত শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ছবি তোলার জায়গায় খুবই বিশৃংখল অবস্থা ছিলো। যে পরিমান মানুষ ছিলো, সেটা ঠিকমত কাজ করলে ১ ঘন্টা থেকে সর্বোচ্চ ২ ঘন্টা লাগে শেষ করতে, কিন্তু ভিতরে যারা কাজ করছিলেন তারা এতটাই স্লো, অর্ধেক শেষ করতেই ৩-৪ ঘন্টা লাগিয়ে দিলেন!

অবশেষে প্রায় ৭-৮ ঘন্টা লাগিয়ে কাজ শেষ করে ফিরে এলাম… এবং একটি শর্ট ট্যুরের!!! সমাপ্তি ঘটল।

শেয়ার করুন

You Might Also Like

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।