ঢাকার আশেপাশে একদিনের শর্ট ট্যুরের কথা বলতে গেলে শুরুতেই আসে কুমিল্লার নাম। এর আগে ২ বার যাওয়া হলেও ৩য় বারের মত গেলাম কুমিল্লা ট্যুরে। এবারের প্ল্যানে অবশ্য আসল মাতৃভান্ডারের রসমালাই খাওয়ার উদ্দেশ্যটাও ছিলো।
যাই হোক, সকাল সকাল বাসা থেকে বের হয়ে রয়েল কোচের একটা এসি বাস (রিজার্ভ!!) করে রওনা হয়ে গেলাম কুমিল্লার উদ্দেশ্যে। টিমের মেম্বার যদিও <১০, তবে রিজার্ভ বলার পেছনে কারন আছে। সকালে যে বাসে ঢাকা থেকে কুমিল্লা গেলাম, ফেরার সময় কাউন্টারে গিয়ে দেখলাম ঠিক সেই বাসটিই আবার যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। একটা বাসের পরেই সেটার সিরিয়াল। তাই ওই বাসের জন্যই আবার টিকিট করলাম, সীট ও পেলাম এক্সাক্ট সেইমটাই 😛
ঠেকে শেখাঃ নোয়াখালী/চট্টগ্রামের সব বাস সায়েদাবাদ থেকে পাওয়া গেলেও কুমিল্লার বাসগুলো ছাড়ে কমলাপুর থেকে। সায়েদাবাদ বা গোলাপবাগ দিয়ে যায় ই না বাস, তাই অবশ্যই কমলাপুরেই যাবেন বাসে উঠার জন্য।
কমলাপুর থেকে প্রতি ১০ মিনিট পর পর ই রয়েল কোচের বাস ছাড়ে। এসি বাসে তাদের ২ ধরনের সীট আছে, একদম সামনে ৬ টা সীট প্লাটিনাম আর পরের সীটগুলো রেগুলার। প্লাটিনাম সীট এর ভাড়া ৩২০ টাকা আর রেগুলারের ভাড়া ২৫০ টাকা। প্লাটিনাম সীটের স্পেশালিটি হলো প্রতি রো তে ৩ টা করে সীট, সেটগুলো বেশ বড় আর পা রাখার জন্যও পর্যাপ্ত স্পেস পাওয়া যায়।

সকাল ৯ টা ১০ এর গাড়িতে উঠলাম, রয়েল কোচ টমছম ব্রীজ পর্যন্ত যায়। শালবন বিহার যাওয়ার জন্য কোটবাড়ি রোডে নামা যায়। সুপারভাইজর কে কোটবাড়ি যাওয়ার কথা বলাতে উনিই কোটবাড়ি রোডে নামার কথা সাজেস্ট করলেন, সেখানেই নামলাম। ২ ঘন্টার চেয়ে অল্প কিছু বেশি সময় লেগেছে ঢাকা থেকে যেতে।
বাস থেকে কোটবাড়ি রোডে নামার পর ইলেক্ট্রিক অটোরিক্সা এবং সিএনজি পাওয়া যায়। শালবন বিহারে যাওয়ার জন্য ভাড়া জনপ্রতি ২০ টাকা।
প্রায় ১৫-২০ মিনিট লাগে শালবন বিহারে পৌছাতে সিএনজিতে। শালবন বিহারের পাশেই আছে ময়নামতি জাদুঘর।
শালবন বিহারের টিকিটের মূল্যঃ
দেশী পর্যটকঃ ২০ টাকা
সার্কভুক্ত দেশের পর্যটকঃ ১০০ টাকা
বিদেশী পর্যটকঃ ২০০ টাকা
শিক্ষার্থী (মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত)ঃ ৫ টাকা
৫ বছরের নিচেঃ ফ্রি
টিকিট কেটে শালবন বিহারে ঢোকার আগে নেয়া কিছু ছবি।
এবার ঢোকা যাক শালবন বিহারের ভিতরে…
ভিতরে ঢুকতেই সামনে পড়বে দুইপাশে সুন্দর ছোট ছোট গাছপালা দিয়ে সাজানো পায়ে হাটার রাস্তা, এরপর বিহারের অংশগুলো দেখা যাবে। ছবি থেকেই দেখে নেয়া যাক…
একটা ভিডিও ও দেখে নেয়া যাক… ভিডিও ক্রেডিটঃ সোলায়মান ভাই
অনেকটা সময় শালবন বিহারে থাকার পর বের হয়ে গেলাম। ততক্ষনে লাঞ্চের সময় হয়ে গেছে। একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে লাঞ্চ করলাম। এবং রওনা হলাম কুমিল্লার আসল মাতৃভান্ডারের উদ্দেশ্যে।
মাতৃ ভান্ডারের রসমালাইঃ
কুমিল্লার উপর দিয়ে নোয়াখালী বা চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে প্রচুর মাতৃভান্ডার দেখা যায়। আমি নিজেই একবার ২০ টার বেশি পর্যন্ত গুনেছিলাম, এরপর ক্ষান্ত দিছি 😛
যাই হোক, এত মাতৃভান্ডার দেখে আসল মাতৃ ভান্ডারে যাওয়ার ইচ্ছা হয়েছিলো, আর তাই এবার চলেই গেলাম আসল মাতৃ ভান্ডারে।
মাতৃ ভান্ডারের অবস্থান মনোহরপুরে। কোটবাড়ির দিক থেকে সিএনজিতে আমরা গেলাম টমছম ব্রীজ পর্যন্ত, সেখান থেকে আরেকটা সিএনজি নিয়ে গেলাম মাতৃ ভান্ডারের সামনে।
কয়েকটা রসমালাই নিয়ে একটা অটোরিক্সায় করে চলে আসলাম টমছম ব্রীজে রয়েল কোচের কাউন্টারে।
৫ঃ১০ এর গাড়িতে করে রওনা হলাম ঢাকার পথে, আড়াই ঘন্টার মত লাগলো ঢাকায় পৌছাতে। আর এভাবেই সমাপ্তি হলো আরেকটি ট্যুরের। অপেক্ষা পরবর্তী ট্যুরের জন্য…
i just love it