তুরাগ নদীর পাড়ে একদিন…

হঠাত করেই শাওন ভাই নক দিলেন, আগামীকাল ফ্রি আছি কিনা, পিকনিক করবেন। আমি সাথে সাথেই রাজি হয়ে গেলাম। পরদিন সকালে টের পেলাম প্রচুর কাজ জমে আছে, কিন্তু বলে যখন ফেলেছি, বাদ দিলাম কাজ আর রওনা হয়ে গেলাম।

যায়গাটার নাম কাউন্দিয়া, মিরপুর ১ নাম্বার প্রিয়াংকা হাউজিং থেকে নদী পার হলেই পৌছে যাওয়া যায় জায়গাটাতে। নৌকা পারাপারে ভাড়া জনপ্রতি ১০-১৫ বা কিছু ক্ষেত্রে ২০ টাকাও চায়।

মিরপুর ১ নাম্বার পৌছাতেই প্রায় ১ টার মত বেজে গেলো, সেখান থেকে নৌকায় রওনা হলাম। দলে সর্বমোট ১০ জন।

কিছুক্ষনের মধ্যে পৌছে গেলাম নদীর অন্য পাড়ে, এরপর হাটা শুরু। পুরো জায়গা জুড়ে শুধই কাশফুল। যদিও আমরা যে সময় গেলাম তখন কাশফুল গাছ সব শুকিয়ে গেছে।

কাশফুলের মাঝে দিয়ে হাটতে হাটতে সন্ধান পেলাম টিনের ছাউনি দেয়া এক ঘরের। প্রচন্ড রোদ এর কারনে ছাউনি পেয়ে খুশিই হলাম এবং সেখানেই বসার সিদ্ধান্ত নিলাম, কিন্তু সেখানে গরমের পরিমান অত্যধিক!

এরই মধ্যে একটু দূরে আরেকটা জায়গা আবিষ্কার হলো যেখানে কিছু গাছপালা ও আছে। চলে গেলাম সেখানে এবং এরপর শুরু হয়ে গেলো রান্নাবান্নার পার্ট।

রান্নার উপকরন সব সাথেই ছিলো। খিচুড়ি এবং মাংস রান্না হবে। একেকজন একেক কাজে নেমে পড়লাম। মোটামুটি ২-৩ ঘন্টায় আমাদের রান্না রেডি এবং সবাই মিলে খেয়ে নিলাম।

রান্না, খাওয়া দাওয়া শেষ করতে করতে বিকেল হয়ে গেলো, এবার ফুটবল টাইম। সব গুছিয়ে ফিরতে শুরু করলাম। ঠিক নদীর পাড়েই খালি যায়গা আছে, সেখানে ফুটবল খেল্লাম কিছুক্ষন, যদিও ফুটবল খেলার ছবি বা ভিডিও কিছুই করা হয়নি।

খেলা শেষে নদীতে নেমে গোসল করলাম এবং তার কিছুক্ষন পর আবার নৌকায় করে বাড়ির পথ ধরলাম।

ঢাকার খুব কাছে হিসেবে ফ্রেন্ডদের গ্রুপ নিয়ে ঘুরে আসার জন্য জায়গাটা ভালোই। কিছু সময় প্রকৃতির সংস্পর্শে কাটানো যায়। তবে ফ্যামিলি নিয়ে বা কোন স্পেশাল ডে ট্যুরের জন্য জায়গাটা একদমই না 🙂

শেয়ার করুন

You Might Also Like

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।