সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর এবং পানাম নগর ভ্রমন

ঢাকার আশেপাশে অল্প সময়ের মধ্যে ঘুরে আসার মত লোকেশন হাতে গোনা কয়েকটা ই আছে। তার মধ্যে সোনারগাঁও এর লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর এবং পানাম সিটি অন্যতম।

অনেকদিন ধরে যাওয়ার প্ল্যান করলেও বিভিন্ন কারনে যাওয়ার সূযোগ হয়ে উঠছিলো না, অবশেষে সেই সুযোগ হলো এবং এবারের ঈদে ঘুরে আসলাম সোনারগাঁও এর লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর এবং পানাম নগরী থেকে। সেই ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য আজকের এই পোস্ট।

লেখার শেষে সোনারগাঁও জাদুঘরের ভিডিও দেয়া আছে। সেটাও দেখে নিতে পারেন স্ক্রোল করে।

অনেক কাজ জমে যাওয়াতে ঈদের প্রথম ৩ দিন পুরোটাই কাজ করে আর ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলাম, চতুর্থ দিনেও সেরকমই প্ল্যান ছিলো কিন্তু সকালে রুহুল ভাইয়ের প্রস্তাব পেয়ে প্ল্যান চেঞ্জ করেই দিলাম। কিছুক্ষনের মধ্যেই বেরিয়ে পড়লাম সোনারগাঁও এর উদ্দেশ্যে।

কিভাবে যাওয়া যায়?

সোনারগাঁও যাওয়ার জন্য গুলিস্তান বাস স্ট্যান্ড  থেকে বাস পাওয়া যায়। এসি, নন এসি দুই ধরনের বাস ই আছে। আমরা বোরাক এর এসিতে গিয়েছিলাম, ভাড়া ৬০ টাকা একেকজনের। নন-এসি তে না যাওয়ার কারনে ভাড়া বলতে পারছি না। ৪০-৫০ হবে হয়তো। বাস থেকে নামতে হবে মুগরাপাড়া বাস স্ট্যান্ডে, এরপর সেখান থেকে অটো, রিক্সা সবই পাওয়া যায় জাদুঘর বা পানাম সিটি যেতে।

সোনারগাঁও জাদুঘর বন্ধ থাকে প্রতি বুধ এবং বৃহস্পতিবার । এছাড়া অন্যান্য দিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

এদিক থেকে যাওয়ার সময় প্রথমেই পড়বে জাদুঘর, তাই জাদুঘরের জন্যই রিক্সা বা অটো নেয়া যায়। আমরাও তাই করলাম। অটো তে প্রতিজনের ভাড়া ১৫ টাকা। জাদুঘরের গেটের সামনেই নামিয়ে দিয়েছিলো।

জাদুঘরের সামনেই কয়েকটা রেস্টুরেন্ট আছে তবে সেগুলোতে খেতে না যাওয়াই ভালো। ১৫০ টাকায় তেহারীর নামে যা দিলো, সেটা আসলে যে কি ছিলো তারাই ভালো জানে। ৩-৪ টুকরা ছোট শক্ত গরুর মাংশ ছিটানো ছিলো পোলাওয়ের মাঝে। পরিমানের দিক থেকে এটার দাম ৫০-৭০ টাকা ঢাকার যেকোন রেস্টুরেন্টে।

জাদুঘরে ঢোকা যাকঃ

এসে তো পড়লাম, এবার ঢোকা যাক যাদুঘরে। ঢোকার জন্য টিকিট নিতে হবে, টিকিটের দাম ৩০ টাকা (ফরেনারদের জন্য ১০০ টাকা)। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিলাম, এরপর আবারও লাইনে দাঁড়িয়ে ঢুকলাম ভিতরে।

দুঃখের বিষয় এখানে ছোট একটা স্যিরিয়াল যেটা শেষ হতে সর্বোচ্চ ২ মিনিট লাগবে, সেখানেও মানুষ ফাকিবাজি করার জন্য মরিয়া

ভিতরে কি আছে ?

ভিতরে ঢোকার পর শুরুতেই হাতের বাম পাশে চোখে পড়বে একটি পুকুর, আর পুকুরের পাশে একটি সুন্দর বাড়ি। এটি বড় সরদার বাড়ি যা ঈশা খাঁর জমিদার বাড়ি নামে পরিচিত। ঈসা খাঁ বাংলার বারো ভুঁইয়া বা প্রতাপশালী বারোজন জমিদারদের প্রধান।

পুকুরের পাশ দিয়ে সুন্দর রাস্তা করা আছে, ওই রাস্তা দিয়ে হেটে সামনে চলে গেলাম, যেতে যেতে দেখা পেলাম অনেকগুলো কুটির শিল্পের দোকানের। কাঠের বিভিন্ন ক্রাফট, জামদানী শাড়ি, নকশী কাথা সহ আরো অনেক ধরনের দোকান দেখলাম।

ছবি ক্রেডিটঃ জাফর

এসব দোকান ক্রস করে এগিয়ে গেলাম, সামনেই দেখলাম সুন্দর বিলের মত যেখানে চলছে নৌকা।

নৌকা ভাড়া নিয়ে নিজেরাই চালানো যায়। ২৫ মিনিট ৩০০ টাকা। প্যাডেল বোট আর বৈঠা বোট ২ ধরনের বোটের ই ব্যবস্থা আছে এবং খরচ একই।

বিলের পাশ দিয়ে আরো এগিয়ে গেলাম, দেখা পেলাম বিক্রয় কেন্দ্রের। এখানেও কিছু ক্রাফট আর মেয়েদের কস্মেটিক্স আইটেম দেখলাম।

আরেকটু সামনে এগোতেই দেখা মিললো একটা বাশের সাকোর। যদিও তার পাশেই কাল্ভার্ট ও বানানো আছে একটা। তবে সেই সাকো দিয়েই পার হলাম।

এরপর চলে আসলাম জাদুঘরের সামনে। এর পুরো নাম শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প যাদুঘর। ভিতরে কুটির শিল্পের বিভিন্ন রকম জিনিস দিয়ে সাজানো। যদিও অনেক গরমের কারনে ভিতরে খুব একটা থাকিনি, চলে এসেছি।

এবার গেইটের দিকে ফেরার রাস্তা ধরলাম…

পানাম সিটি / পানাম নগরঃ

যাদুঘর থেকে বেরিয়ে পানাম নগরের পথ ধরলাম। যাদুঘরের সামনেই অটো, রিক্সা সবই পাওয়া যায়। অটোতে ভাড়া সম্ভবত ৫ বা ১০ টাকা প্রতিজনের। অটো পানাম নগরের সামনে নামিয়ে দিলো।

পানাম নগরে ঢোকা যাকঃ

অটো থেকে নেমে হাতের ডানদিকে ছোট একটা গেট পেরিয়ে হেটে সামনে কিছুদুর গেলে দেখা পাওয়া যাবে পানাম নগরে ঢোকার টিকিট কাউন্টারের। টিকিটের দাম ২০ টাকা। টিকিট কিনে এরপর ঢুকে পড়লাম পানাম নগরের ভিতরে।

এটা একটা রাস্তা যার ২ পাশে অনেক পুরনো জরাজীর্ণ কিছু স্থাপনা আছে। ইতিহাসের সাক্ষী এসব স্থাপনা দেখতেই সবাই পানাম নগরে ঘুরতে যায়।

ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকলাম এসব স্থাপনাগুলো। ঝুকিপূর্ণ হবার কারনে এসব স্থাপনার দালানের উপর ওঠা নিষেধ করা আছে, যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়বে, তাতে দর্শনার্থী আহত হবার পাশাপাশি ঐতিহাসিক জায়গাটিও হারিয়ে যাবে।

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মানুষ এসব ভবনের উপরে উঠে যায়। এটা আমাদের  আরেকটি অত্যন্ত ব্যাজে অভ্যাস। কোন এক অজানা কারনে নিয়ম ভাঙ্গাটাই যেন ক্রেডিট মনে করি আমরা।

কিছুক্ষন ঘোরাফেরা করে আবার ঢাকার পথে রওনা দিলাম। পানাম নগরের গেটের সামনে থেকে রিক্সায় মুগ্রাপাড়া, এরপর বোরাকে করে আবার ঢাকায় চলে এলাম। রিক্সায় আসার সময় অন্য একটা রাস্তা দিয়ে এসেছিলো, বিকেল বেলায় রিক্সা ভ্রমনটাও অন্যরকম একটা ভালোলাগা এনে দিয়েছিলো।

যাদের স্বল্প সময়ে ঢাকার আশেপাশে ঘুরে আসার ইচ্ছা, তারা অবশ্যই ঘুরে আসতে পারেন সোনারগাঁও থেকে।

সোনারগাঁও জাদুঘর এর ভিডিওঃ

শেয়ার করুন

You Might Also Like

4 Replies to “সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর এবং পানাম নগর ভ্রমন”

  1. বাড়িটির নাম… বড় সরদার বাড়ি যা ঈশা খাঁর জমিদার বাড়ি নামে পরিচিত।
    ঈসা খাঁ বাংলার বারো ভুঁইয়া বা প্রতাপশালী বারোজন জমিদারদের প্রধান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।